![]() |
জাতীয় দলের হয়ে চিত্রটা নিয়মিত দেখা যেত। এক প্রান্তে সাকিব আল হাসানের বাঁহাতি স্পিন। অন্য প্রান্তে মাশরাফি বিন মুর্তজার আঁটসাঁট পেস বোলিং।
মিড অফ থেকে একজন আরেকজনের জন্য তোয়ালে দিয়ে বল মুছে দিতেন। দুজনই নিজেদের দিনে মিতব্যয়ী বোলিং করতেন। রান থামিয়ে বাংলাদেশের জন্য বের করতেন উইকেট। আজ জেমকন খুলনার জার্সিতে সেই দৃশ্য গেল।
বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপে গাজী গ্রুপ চট্টগ্রামের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে ক্রিকেটে ফিরলেন মাশরাফি। তবে মাশরাফির ফেরার ম্যাচটা জিততে পারেনি খুলনা। টান টান উত্তেজনার ম্যাচে শামসুর রহমানের ব্যাটে শেষ পর্যন্ত ৩ উইকেটে জিতেছে চট্টগ্রাম।
এ জয়ে বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপের শেষ চারে উঠল চট্টগ্রাম। রাজশাহী দিনের প্রথম ম্যাচে হারায় শেষ চার নিশ্চিত হয় খুলনারও।
সাকিবের সঙ্গে গত বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচের পর আজই প্রথম একই দলে খেললেন বাংলাদেশের অন্যতম সফল ক্রিকেটার মাশরাফি। তাঁর ফেরার এই ম্যাচে প্রথম চমক ছিল চারে ব্যাট করতে নামা।
সাকিবের সঙ্গে কিছুক্ষণ ক্রিজে সময় কাটান তিনি। সাকিবের সোজা ব্যাটের ড্রাইভেই বোলার রকিবুল হাসান রানআউট করেন মাশরাফিকে। ১ রানের বেশি করতে পারেননি রানআউট হওয়া মাশরাফি।
দলের বাকি ব্যাটসম্যানরাও খুব যে ভালো করতে পেরেছেন, সেটি বলা যাবে না। নিয়মিত উইকেট নিয়ে খুলনাকে ৯ উইকেটে ১৫৭ রানে থামান চট্টগ্রামের বোলাররা। শুভাগত হোমের ১৪ বলে ৩২ রানের ইনিংসটি বাদ দিলে এই রানও হওয়ার কথা না খুলনার।
তবে যে দায়িত্বের জন্য মাশরাফির খেলা, সেটি তিনি ঠিকঠাক পালন করেছেন। অল্প রান নিয়ে লড়াই করতে নামা খুলনার হয়ে ৪ ওভার বল করে ২৮ রানে নিয়েছেন ১ উইকেট।
ইনিংসের শুরুতেই অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ দুই অভিজ্ঞ সাকিব ও মাশরাফিকে বল তুলে দেন। বরাবরের মতোই দুজনের মিতব্যয়ী বোলিংয়ে আটকে রাখে চট্টগ্রামের দুই বিধ্বংসী ওপেনার লিটন দাস ও সৌম্য সরকারকে।
ধরে খেলে থিতু হয়ে রান তোলার চেষ্টা বৃথা যায় দুজন অভিজ্ঞের বোলিংয়ের কাছে। সাকিব-মাশরাফির দুই প্রান্ত থেকে সৃষ্ট চাপ কাটতে লিটন চেষ্টা করেন ক্রিজ ছেড়ে মারার। কিন্তু সাকিবের চতুর বোলিংয়ে আউট হন মিড উইকেটে ক্যাচ দিয়ে। চট্টগ্রামের ব্যাটিং বড় হোঁচট খায়।
সাকিব প্রথম ২ ওভারে ২০ রান দিয়ে লিটনকে আউট করে নিজের দায়িত্ব শেষ করেন। মাশরাফি প্রথম দুই ওভারে দেন মাত্র ১০ রান। পাওয়ার প্লের পর আরেক ওভার করলে মাশরাফির বোলিং ফিগার দাঁড়ায় ৩ ওভারে ১৭ রান।
এরপর তিনি বোলিংয়ে আসেন ১৫তম ওভারে। রান রেট তখন বাড়ন্ত। ক্রিজে থাকা মোসাদ্দেক হোসেন এই টুর্নামেন্টে ইতিমধ্যেই দারুণ ফিনিশারের দায়িত্ব পালন করেছেন।
মাশরাফির বাকি থাকা একটি ওভারে দ্রুত কিছু রান নিয়ে আস্কিং রান রেট কিছুটা নাগালে আনতে চাইবেন তিনি। ফুল লেংথের একটি বল মাশরাফির মাথার ওপর দিয়ে ছক্কা মেরে সেই ইঙ্গিতই দিচ্ছিলেন।
কিন্তু পরের বলে মাশরাফি ছাড়েন অফ কাটার, মোসাদ্দেক ক্রিজ ছেড়ে আবার ছক্কা মারতে গিয়ে হন বোল্ড। মাশরাফি ৪ ওভার শেষ করেন ২৮ রানে ১ উইকেট নিয়ে। চট্টগ্রামের রান তাড়ার স্বপ্ন মোসাদ্দেকের উইকেট পতনে শেষ হতে পারত।
কিন্তু শামসুরের ব্যাটিং চট্টগ্রামকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখে। নাহিদুলের সঙ্গে জুটি গড়ে ম্যাচ জমিয়ে দেন তিনি। শেষ ১২ বলে চট্টগ্রামের দরকার ছিল ২৫ রান। নাহিদুল ও শামসুর ব্যাটিংয়ে শেষ ৬ বলে সমীকরণ দাঁড়ায় ৯ রান।
আল আমিনের করা শেষ ওভারের শেষ বলে দরকার ছিল ২ রান। শেষ বলে শামসুর ছক্কা মেরে চট্টগ্রামকে তিন উইকেটের অবিশ্বাস্য ম্যাচ জেতান। শামসুর খেলেন ৩০ বলে ৪৫ রানে অপরাজিত ইনিংস।

0 Comments